https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
জীবন ঝুঁকিতে থাকলে মিয়ানমারের কোনো রোহিঙ্গা শরণার্থীকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হবে না বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটির সরকার বলেছে, প্রত্যাবাসনের আগে প্রত্যেক শরণার্থীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই করা হবে এবং ঝুঁকি থাকলে তাকে ফেরত পাঠানো হবে না।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সম্প্রতি ঘোষণা দেন, মিয়ানমার ৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। এরপর থেকেই সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল বলেন, “মালয়েশিয়া একটি দায়িত্বশীল দেশ। কাউকে ফেরত পাঠালে যদি নির্যাতন বা প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে, তাহলে তাকে ফেরত পাঠানো হবে না।”
তিনি জানান, মিয়ানমারের সামরিক সরকার শরণার্থীদের গ্রহণে সম্মতি জানিয়েছে। তবে প্রত্যাবাসনের আগে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী প্রত্যেকের তথ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই করা হবে। সব শর্ত পূরণ হলেই কেবল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
ফাহমি বলেন, এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানায়, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় নিবন্ধিত দুই লাখ ১৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে এক লাখ ২৬ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা, যা দেশটির সবচেয়ে বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠী।
সম্প্রতি কুয়ালালামপুরে ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করার পর প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে আসে। পরে তাদের বৈধ নিবন্ধনপত্র যাচাই করে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামা জানিয়েছে, সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শুরু করেছে।
এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধান রোহিঙ্গা অধিকার সংগঠন সরকারকে এই পরিকল্পনা স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হলে রোহিঙ্গাদের জীবন আবারও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অন্যতম বড় শরণার্থী আশ্রয়স্থল হলেও দেশটি ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের সদস্য নয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থী মর্যাদা স্বীকৃতি দেয় না। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর ব্যাপক নির্যাতনের মুখে পালিয়ে যাওয়া লাখো রোহিঙ্গার একটি বড় অংশ বর্তমানে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে।