https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
আজ যেসব স্থানে পর্যটকদের ভিড়, ক্যামেরার ঝলকানি আর ইতিহাস জানার আগ্রহ দেখা যায়, সেসব জায়গার অনেকগুলোই একসময় ছিল কুখ্যাত কারাগার। যেখানে একসময় মানুষকে শাস্তি ভোগের জন্য পাঠানো হতো, সময়ের ব্যবধানে সেসব স্থানই এখন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত আলকাট্রাজ দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম পরিচিত কারাগার ছিল। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত অপরাধীদের এখানে রাখা হতো। চারদিকে পানি থাকায় এখান থেকে পালানো প্রায় অসম্ভব বলে ধরা হতো। ১৯৬৩ সালে কারাগারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এটি ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। বর্তমানে প্রতিবছর লাখো মানুষ বন্দিশালা, একাকী কারাবাসের কক্ষ এবং কারাগারের ইতিহাস দেখতে সেখানে যান।
দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনের উপকূলে অবস্থিত রবেন আইল্যান্ড ছিল রাজনৈতিক বন্দিদের কারাগার। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা তাঁর ২৭ বছরের কারাজীবনের ১৮ বছর এখানেই কাটিয়েছিলেন। বর্তমানে এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এবং দেশটির ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন। অনেক সময় সাবেক বন্দিরাই দর্শনার্থীদের কারাগার ঘুরিয়ে দেখান।
আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে অবস্থিত কিলমেইনহ্যাম কারাগার দেশটির স্বাধীনতা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। ১৭৯৬ সালে নির্মিত এই কারাগারে বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীকে বন্দি রাখা হয়েছিল এবং অনেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এখন এটি একটি জাদুঘর, যেখানে পুরোনো সেল, আদালত কক্ষ এবং ঐতিহাসিক প্রদর্শনী দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় করেন।
অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ায় অবস্থিত পোর্ট আর্থার ছিল ব্রিটিশদের কুখ্যাত দণ্ড উপনিবেশ। উনিশ শতকে হাজারো দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে সেখানে পাঠানো হতো। বর্তমানে কারাগারের ধ্বংসাবশেষ, গির্জা, হাসপাতাল ও প্রশাসনিক ভবন সংরক্ষণ করে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের হোয়া লো কারাগার প্রথমে ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসকেরা রাজনৈতিক বন্দিদের জন্য নির্মাণ করেছিল। পরে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় সেখানে মার্কিন যুদ্ধবন্দিদের রাখা হয়। বর্তমানে কারাগারের একটি অংশ জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছে, যেখানে বন্দিদের জীবন, যুদ্ধকালীন বাস্তবতা এবং ঐতিহাসিক নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অবস্থিত ইস্টার্ন স্টেট পেনিটেনশিয়ারি আধুনিক কারাগার ব্যবস্থার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। ১৮২৯ সালে চালু হওয়া এই কারাগারের নকশা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগার নির্মাণে প্রভাব ফেলেছিল। বর্তমানে এটি ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সংরক্ষিত এবং দর্শনার্থীরা পুরোনো সেল ও কারাগারের ইতিহাস ঘুরে দেখতে পারেন।
একসময় ভয়, শাস্তি ও বন্দিজীবনের প্রতীক ছিল এসব স্থান। আজ সেগুলোই ইতিহাস, মানবাধিকার, স্বাধীনতার মূল্য এবং অতীতের শিক্ষা জানার গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।