https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসে অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক এবং একের পর এক পদত্যাগের ঘটনায় দলটিতে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘নয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্রোহী নেতাদের দাবি, তাদের সঙ্গে অন্তত ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক রয়েছেন।
সম্প্রতি তৃণমূল নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল থেকে নির্বাচিত ৮০ জন বিধায়ককে কলকাতার কালীঘাটের বাসভবনে বৈঠকের জন্য ডাকেন। তবে সেখানে ৬১ জন বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন, যা দলীয় অস্বস্তিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
সংকটের সূত্রপাত হয় বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা অভিযোগ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম সমর্থন দেখাতে তাদের স্বাক্ষর জাল করে স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ঋতব্রত ও সন্দীপনকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বহিষ্কারের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তৃণমূল সরকারের আমলে সংঘটিত নানা দুর্নীতির বিষয়ে তার কাছে তথ্য রয়েছে এবং এসব বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। অন্যদিকে সন্দীপন সাহা বলেন, নৈতিক অবস্থান থেকে তিনি অভিযোগ করেছিলেন এবং এ কারণে বহিষ্কৃত হলে তার কোনো আক্ষেপ নেই।
তৃণমূলের সাংগঠনিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে স্থানীয় সরকার পর্যায়েও। চন্দননগর পৌরসভার ৩০ জন কাউন্সিলরের একযোগে পদত্যাগের ফলে পৌর বোর্ড ভেঙে দিতে হয়েছে প্রশাসনকে। এছাড়া কলকাতা পুরসভার কয়েকজন কাউন্সিলর ও দলীয় মুখপাত্রও সাম্প্রতিক সময়ে পদত্যাগ করেছেন অথবা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন।
দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তৃণমূলের কিছু নেতা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে দায়ী করছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ পাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী পরাজয়ের পর নেতৃত্ব, কৌশল ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা দ্রুত সমাধান না হলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।