https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২০টি সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে বিবিসির অনুসন্ধানী ইউনিট ‘বিবিসি ভেরিফাই’। স্যাটেলাইট ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসমক্ষে স্বীকার করা ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় প্রকৃত হামলার ব্যাপ্তি ও প্রভাব আরও বড় হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ও যৌথ সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবিসির বিশ্লেষণে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্ডান, বাহরাইন ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, আক্রান্ত স্থাপনার সংখ্যা ২০-এরও বেশি হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে নজরদারি ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের ক্ষতির চিহ্নও স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের শুরুতে ইরান ব্যাপক সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করলেও পরবর্তীতে তারা কৌশল পরিবর্তন করে উচ্চমূল্যের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আরও নির্ভুল আঘাত হানার দিকে মনোযোগ দেয়। এর ফলে তুলনামূলক কম অস্ত্র ব্যবহার করেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো সম্ভব হয়েছে।
পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা সামরিক নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ এর আগে জানিয়েছে, সংঘাত চলাকালে হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে এবং সামরিক অভিযানের ব্যয় কয়েকশ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি দাবি করেছেন, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আর আগের মতো নিরাপদ নয়। তার বক্তব্যের পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য নতুন সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, বর্তমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কারণ, চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে।