https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়েছে। বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটে অনুমোদন পায়।
ডেমোক্র্যাট সদস্যদের পাশাপাশি চারজন রিপাবলিকান সদস্যও প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। ফলে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও প্রস্তাবটি পাস হওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে হলে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তবে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও এটি এখনই আইনে পরিণত হচ্ছে না। কার্যকর হতে হলে প্রস্তাবটি সিনেটেও অনুমোদন পেতে হবে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ভেটো দিলে তা অতিক্রম করতে উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটির আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত হলেও এটি ইরান নীতি ও সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কংগ্রেসের একটি অংশের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ ও অসন্তোষের প্রতিফলন। এর আগে একই ধরনের তিনটি উদ্যোগ প্রতিনিধি পরিষদে প্রয়োজনীয় সমর্থন পায়নি।
এদিকে ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক অগ্রগতিরও ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি সমঝোতা সম্পন্ন হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার বিষয়েও অগ্রগতি হতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে। উভয় পক্ষ প্রস্তাবিত খসড়াগুলো পর্যালোচনা করছে এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। আগামী শনিবার এ সংঘাতের ১০০ দিন পূর্ণ হবে। যদিও ৮ এপ্রিল থেকে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ফলে যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও অঞ্চলটিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। কূটনৈতিক আলোচনা ও রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।