জাতীয় নাগরিক পার্টির সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর কারাগারে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে বগুড়া জেলা কারা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে রাতে বন্দিদের কারাগারের বাইরে নিয়ে গিয়ে ভোরে ফিরিয়ে আনার অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে তারা।

শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করে বগুড়া ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থানকালে তানভীরের ওপর কোনো শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কোনো কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর অসদাচরণের ঘটনাও ঘটেনি বলে দাবি করা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট বগুড়া জেলা কারাগারে নেওয়ার পর অসুস্থতার কারণে তানভীরকে কারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ৭ সেপ্টেম্বর তাকে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

এর আগে শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে তানভীর অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কারাগার ও পুলিশ হেফাজতে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। চিকিৎসার নামে তাকে অজ্ঞাত ওষুধ এবং ৭০ থেকে ৮০টি ইনজেকশন দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

এ ছাড়া অপরিচ্ছন্ন ও আলো-বাতাসহীন সেলে রাখাসহ কারাগারে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন তানভীর। কারাগারে আওয়ামী লীগের নেতাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং রাতে গাড়িতে করে বাইরে নিয়ে গিয়ে ভোরে ফিরিয়ে আনার অভিযোগও করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের কোনোটি সত্য নয় বলে দাবি করেছে বগুড়া জেলা কারা কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, বন্দিদের রাতে কারাগারের বাইরে নিয়ে গিয়ে ভোরে ফিরিয়ে আনার মতো কোনো ঘটনা সেখানে ঘটেনি।

তানভীরের অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ, নথি, ভিডিও, অডিও বা সাক্ষ্য থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে যাচাই ছাড়া কারা বিভাগ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।