চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দনা রানী শীল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ভালোবেসে বিয়ের এক বছরের মাথায় স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ থেকে তাঁকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী শিমুল শীলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরও দুই তরুণের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন শিমুল।
চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নজরুল ইসলাম ও ইলিয়াস হোসেন নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকেলে টেরিয়াইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিমুল ও তাঁর ভাই পীযূষ শীলকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শিমুল হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেন এবং অন্য দুজনের নাম জানান। পরে ভাটিয়ারী ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে নজরুল ও ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার সকালে সীতাকুণ্ডের বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল এলাকায় টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়ের পেছন থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় চন্দনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম সৈয়দপুর এলাকার তেজেন্দ্র দাশের মেয়ে।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে চন্দনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। ঘটনার আগের দিন নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে যান। পরে স্বামী তাঁকে আবার ডেকে নিয়ে যান। এর পরদিন তাঁর মৃত্যুর খবর পায় পরিবার।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিমুলের সন্দেহ ছিল, তাঁর স্ত্রী চন্দনার সঙ্গে নজরুলের সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শিমুল দাবি করেন, ঘটনার রাতে এ বিষয় নিয়ে চন্দনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে মামলা করার হুমকি দিলে তাঁরা তাঁকে হত্যা করেন। এতে নজরুলের বন্ধু ইলিয়াসও অংশ নেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নজরুল সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক এবং ইলিয়াস মিনিবাসের চালক। তাঁদের সঙ্গে চন্দনার পরিচয় কীভাবে হয়েছিল এবং হত্যাকাণ্ডে প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন