জয়ের জন্য শেষ দিনে প্রয়োজন ছিল মাত্র সাত উইকেট। দিনের বেশির ভাগ সময় আফগানিস্তানের ব্যাটারদের চাপে রাখলেও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। সেদিকুল্লাহ আতালের দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পর ইয়ামিন আহমাদজাই ও কায়েস আহমেদের প্রতিরোধে ম্যাচটি ড্র করেছে আফগানিস্তান।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আবুধাবিতে টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে নাটকীয় এই ফল দেখে হতাশ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একাধিক সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় জয় থেকে বঞ্চিত হয় নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে শেষ দিনের খেলা শুরু করে আফগানিস্তান। শুরু থেকেই উইকেট ধরে রেখে ড্রয়ের লক্ষ্যেই এগোতে থাকেন আগের দিন অপরাজিত থাকা সেদিকুল্লাহ আতাল ও হাশমতউল্লাহ শহীদি। বাংলাদেশ অধিনায়ক একাধিকবার বোলিং পরিবর্তন করেও শুরুতে সাফল্য পাননি। স্পিনাররাও প্রত্যাশা অনুযায়ী চাপ তৈরি করতে পারেননি।

তবে লাঞ্চের আগে উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। এবাদত হোসেনের বলে পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন ইকরাম আলিখিল। ৬৯ বলে ৩৩ রান করেন তিনি।

এরপর ইসমত আলমের সঙ্গে জুটি গড়েন আতাল। ৪০ রানের জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাঁর বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইসমত। পরে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়ার পর আবার ব্যাটিংয়ে নামা শহীদিও মিরাজের বলে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। ৬৯ বলে ৩৬ রান করেন তিনি।

একদিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছিল আফগানিস্তান, অন্যদিকে দৃঢ়তায় ব্যাট করে যাচ্ছিলেন আতাল। শেষ পর্যন্ত ৩৩২ বল মোকাবিলা করে ১১১ রানের ইনিংস খেলেন এই ওপেনার। তাঁর ইনিংসে ছিল নয়টি চার ও তিনটি ছক্কা। এটি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।

আতাল আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তখনো দিনের খেলা বাকি ছিল ২৩.২ ওভার। শেষের দিকের ব্যাটারদের নিয়ে এতটা সময় টিকে থাকা কঠিন হবে বলেই মনে হচ্ছিল।

কিন্তু সেখানেই ঘুরে দাঁড়ায় আফগানিস্তান। ইয়ামিন আহমাদজাই ও কায়েস আহমেদ অষ্টম উইকেটে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ৮৫ বলে ১৯ রান করে ফেরেন আহমাদজাই। তবে ততক্ষণে ম্যাচ বাঁচানোর কাজ অনেকটাই এগিয়ে নিয়েছিল আফগানিস্তান।

কায়েস আহমেদ ও জিয়াউর রহমান শেষ পর্যন্ত উইকেটে থেকে ম্যাচ ড্র নিশ্চিত করেন। ৮০ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন কায়েস। জিয়াউর রহমান অপরাজিত ছিলেন শূন্য রানে।

বাংলাদেশের হয়ে এবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ তিনটি করে উইকেট নেন। হাসান মাহমুদ ও নাঈম হাসান পান একটি করে উইকেট।

শেষ দিনে সাত উইকেট নেওয়ার সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে না পারায় বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি হয়ে থাকল বড় হতাশার। বিপরীতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে ড্র আদায় করে নেয় আফগানিস্তান।