প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে সহযোগিতা এবং কম সুদে ঋণ পাওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এ সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ৩ থেকে ৪টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, সফর সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে আটটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে। তবে এর মধ্যে তিন থেকে চারটি সই হতে পারে। দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতি প্রকাশের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সব দেশের কাছ থেকেই কম সুদে ঋণ পেতে আগ্রহী। তবে জাপানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনার ফলাফল সফর শেষে জানা যাবে।
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) প্রসঙ্গে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও জাপানের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই চুক্তিটি কার্যকর হবে।
চুক্তির কারণে কোনো কোনো পণ্যের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলে তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব। তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের সম্ভাব্য আমদানি-রপ্তানি চাহিদা পূরণে বন্দরের সক্ষমতা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থ, জনগণের প্রয়োজন ও জাতীয় কল্যাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর তালিকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের না থাকার বিষয়ে তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে উজবেকিস্তানে একটি বৈশ্বিক সভায় অংশ নিচ্ছেন।
সফরে সম্ভাব্য সমঝোতাগুলো চূড়ান্ত হলে দুই দেশের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মন্তব্য করুন