দীর্ঘ বিরতির পর আবারও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হবে পর্যটকদের যাতায়াত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপটি ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। এ জন্য প্রত্যেক পর্যটককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে দিতে হবে ১০০ টাকা।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত চালু থাকবে। এবারের পর্যটন মৌসুমে পর্যটকসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গত বছর প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি পেয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার করা হয়েছে। ফলে আগের বছরের তুলনায় দৈনিক পর্যটক ধারণক্ষমতা ৭৫ শতাংশ বাড়ছে।

নতুন সিদ্ধান্তের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ফেব্রুয়ারি মাসেও দ্বীপটিতে পর্যটকদের যাতায়াতের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত নিয়ম ও নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

পর্যটকদের ভ্রমণের আগে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড স্বীকৃত ওয়েব পোর্টাল থেকে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজে করেই দ্বীপে যাতায়াত করতে হবে।

এদিকে, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়িয়ে চলার নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশব্দ সৃষ্টি, রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, বারবিকিউ পার্টি এবং কেয়া বনে প্রবেশের মতো কর্মকাণ্ডেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটকদের জন্য সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। তাই দ্বীপের সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রাখতে প্রত্যেক পর্যটককে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।