জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা, ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং সহজ শর্তে অর্থায়ন, এসব বিষয়কে সামনে রেখে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এ বাংলাদেশের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় শহর আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে এই সম্মেলন। এতে জলবায়ু অর্থায়ন, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো, অভিযোজন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। অথচ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে খুবই কম। তাই বাংলাদেশের প্রথম দাবি হওয়া উচিত, জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে একটি দেশের আয় নয়, বরং জলবায়ু ঝুঁকিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।

দ্বিতীয়ত, অভিযোজন ও জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অনুদান এবং সহজ শর্তের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ঋণনির্ভর সহায়তা বাড়লে জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করতে গিয়ে বাংলাদেশের ঋণের বোঝাও বাড়তে পারে।

তৃতীয়ত, জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে দ্রুত অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা প্রয়োজন। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও লবণাক্ততায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সময়মতো সহায়তা পৌঁছানো জরুরি।

চতুর্থত, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের পরও বাংলাদেশের জন্য বিশেষ জলবায়ু সহায়তা অব্যাহত রাখার দাবি তোলা প্রয়োজন। কারণ অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হলেও দেশের জলবায়ু ঝুঁকি কমে যায়নি।

পঞ্চমত, পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পের সবুজ রূপান্তরে প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমানোর নামে নতুন বাণিজ্যিক বাধা তৈরি না করার দাবি জানাতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কপ৩১-এ বাংলাদেশের সাফল্য নির্ভর করবে এসব দাবিকে কার্যকর আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তে রূপ দেওয়ার ওপর। জলবায়ু ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।