ভারতের মহারাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও একনাথ শিন্ডের শিবসেনার জোটে নতুন করে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। মারাঠা সংরক্ষণ আন্দোলনের নেতা মনোজ জারাঙ্গে পাটিলের প্রকাশ করা একটি অডিও ক্লিপে ৫০০ কোটি রুপি লেনদেনের অভিযোগ সামনে আসার পর দুই দলের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে জোটের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শিবসেনার সংসদ সদস্য শ্রীকান্ত শিন্ডের মাধ্যমে জারাঙ্গে পাটিলের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে অডিওটিতে আলোচনা হয়েছে। শ্রীকান্ত উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের ছেলে। তবে একনাথ শিন্ডে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিজেপিও অডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এরই মধ্যে ফরেনসিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
শুক্রবার শিবসেনার জ্যেষ্ঠ নেতা রামদাস কদম প্রশ্ন তোলেন, বিজেপির কোনো অংশ একনাথ শিন্ডেকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করছে কি না। জবাবে বিজেপি নেতা প্রবীণ দারেকর বলেন, প্রমাণ ছাড়া নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
২০২২ সালে শিবসেনা থেকে বেরিয়ে বিজেপির সমর্থনে সরকার গঠন করেন একনাথ শিন্ডে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হলেও ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ২৮৮ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ১৩২টি এবং শিন্ডের শিবসেনা ৫৭টি আসন পায়। এরপর দেবেন্দ্র ফড়নবিশ মুখ্যমন্ত্রী এবং শিন্ডে উপমুখ্যমন্ত্রী হন।
পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিত্ব বণ্টন, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ এবং স্থানীয় নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে দুই দলের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ দেখা দেয়। মুম্বাইয়ের মেয়র পদ বিজেপির দখলে যাওয়াও শিবসেনার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করে।
শিবসেনার কয়েকজন নেতা ২০২৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর একনাথ শিন্ডেকে আবার মুখ্যমন্ত্রী করার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। তাদের লক্ষ্য, আগামী নির্বাচনে দলের আসনসংখ্যা বাড়ানো।
সাম্প্রতিক অডিও বিতর্ক তাই শুধু অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নয়; জোটের নেতৃত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং ভবিষ্যৎ ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রশ্নও সামনে এনেছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।

মন্তব্য করুন