ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে প্রতিবছর প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা এবং জাটকা সংরক্ষণে মাছ ধরায় বিধিনিষেধ দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে গত দুই দশকে দেশে ইলিশের উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছিল। তবে সেই ধারায় ছেদ পড়েছে। টানা দুই অর্থবছর ধরে কমছে জাতীয় মাছটির উৎপাদন। ফলে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মৎস্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮৩৯ মেট্রিক টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৭১ হাজার ৩৪২ মেট্রিক টনে। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন ৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ৫ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৭ মেট্রিক টনে নেমে আসে। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আরও কমে ৫ লাখ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে।

মৎস্য গবেষকদের মতে, মা ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া এবং জাটকাকে বড় হওয়ার সময় দেওয়ার লক্ষ্যেই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অমাবস্যা ও পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে ইলিশের ডিম ছাড়ার প্রবণতা বাড়ে। এ কারণে প্রজনন মৌসুমে টানা ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়।

তবে নিষেধাজ্ঞার যথাযথ বাস্তবায়ন নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। চাঁদপুরের নদী এলাকায় অভিযান চললেও বিশাল জলসীমার তুলনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা সীমিত। সুযোগ পেয়ে কিছু অসাধু জেলে নদীতে মাছ ধরছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. তায়েফা আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইলিশের প্রজনন সময়েও পরিবর্তন এসেছে। নদীদূষণ ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরাও উৎপাদন কমার অন্যতম কারণ।

ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমানের মতে, শুধু নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করলেই হবে না, এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

গবেষকদের আশঙ্কা, নদীদূষণ, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন, চর ও ডুবোচরের পরিবর্তন এবং প্রজননক্ষেত্রের পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় ইলিশের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই উৎপাদন বাড়াতে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নদী ও ইলিশের বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণেও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।