উড়োজাহাজ কেনাসহ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।

সভায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম, প্রকল্প গ্রহণ এবং ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় কমিটির সদস্যরা সব ধরনের ক্রয় ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

মন্ত্রী বলেন, বিগত ২০ বছরে জবাবদিহিতার ধারাবাহিকতা না থাকায় পরিকল্পনাহীনভাবে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার যেকোনো ধরনের ক্রয় প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়ন ও উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিমানকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। এখনই ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন না করলে আগামী কয়েক বছর পর বিমান তীব্র উড়োজাহাজ সংকটে পড়তে পারে।

তিনি জানান, নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হতে প্রায় ১০ বছর সময় লাগবে। এ সময়ের মধ্যে বর্তমান বহরের উড়োজাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে গ্রাউন্ডেড হতে থাকবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে সরকারের সরাসরি কোনো অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিজস্ব আয় থেকে পর্যায়ক্রমে এ অর্থ পরিশোধ করবে। সরকার কেবল গ্যারান্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

বিগত সরকারের সময়ের অনিয়মের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অতীতে যেসব অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা হয়েছে, সেগুলোর যথাযথ তদন্ত করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ জন্য প্রায় দুই হাজার একর জমির প্রয়োজন হবে। ওয়াইড বডি উড়োজাহাজ ওঠানামার উপযোগী রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।