https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দেশে ১০০ দিনে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হলেও, এর বেশিরভাগই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের কারণে ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।
সোমবার এক ব্যাখ্যায় পুলিশ জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত “১০০ দিনে ৬০৫ খুন” শিরোনামের প্রতিবেদনে শুধু মোট সংখ্যা তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার ধরন, দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা এবং জনসংখ্যার অনুপাতে অপরাধের হার বিবেচনা করা হয়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে নথিভুক্ত ৬০৫টি হত্যা মামলার মধ্যে ৩৩৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে পূর্বশত্রুতার জেরে, যা মোট ঘটনার ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশ। পারিবারিক কলহে ১৪৬টি, সম্পত্তি ও আর্থিক বিরোধে ৬৯টি এবং আকস্মিক আঘাতে ১৯টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক কারণে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩টি।
পুলিশ বলছে, এসব পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় যে অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বা সামাজিক দ্বন্দ্ব কাজ করেছে। তাই শুধুমাত্র মোট সংখ্যা দেখে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বাস্তব চিত্রকে পুরোপুরি তুলে ধরে না।
ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, গত এক দশকে দেশে প্রতি বছর গড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। সেই হিসাবে দুই মাসের ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডকে বার্ষিক হিসাবে রূপান্তর করলে সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৬৩০-এ দাঁড়ায়, যা আগের বছরগুলোর গড় প্রবণতার মধ্যেই রয়েছে।
জনসংখ্যার অনুপাতেও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে পুলিশ। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশে দুই মাসে প্রতি লাখ জনসংখ্যায় হত্যার হার দাঁড়িয়েছে ০.৩৪, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তুলনামূলকভাবে উচ্চ নয় বলে দাবি করেছে তারা।
পুলিশ আরও উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মামলা গ্রহণ ও নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া আরও উন্মুক্ত ও সক্রিয় হয়েছে। তাদের মতে, মামলা রেকর্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি প্রশাসনিক দুর্বলতার নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির প্রতিফলন।
তবে অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মোট সংখ্যাও জননিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তাই পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা, অপরাধের কারণ এবং বিচারিক অগ্রগতিকে একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।