https://timenewsbangla.com

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অধিকতর স্বচ্ছ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্যে মামলাটি ডিবিতে দেওয়া হয়েছে। মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিনাত আলীকে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়েছে।
সোমবার বিকালে মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জী ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মামলার নথি ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত নতুন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন। পরে পুরোনো ও নতুন তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার ও ডিবি প্রধান সনাতন চক্রবর্তী জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আদালত সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের জবানবন্দির সঙ্গে পুলিশের দেওয়া প্রাথমিক ঘটনার বর্ণনার মিল রয়েছে। তবে তারা কিছু অতিরিক্ত তথ্যও জানিয়েছে, যা আগে পুলিশকে জানায়নি।
গত শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রবিবার ভোরে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
রবিবার রাতে দুই আসামিকে রংপুর মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই দিন ময়নাতদন্ত শেষে চারজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং রাতে দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।