যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে ইতোমধ্যে স্বাক্ষর হয়েছে এবং চুক্তির বিস্তারিত শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে সোমবার ট্রাম্প বলেন, চুক্তিতে সই সম্পন্ন হয়েছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে।

আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির বিস্তারিত কবে প্রকাশ করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, শুক্রবারের পর খুব শিগগিরই তা জনসমক্ষে আনা হতে পারে।

এদিকে মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার চুক্তির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ এবং কংগ্রেসকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জানার অধিকার রয়েছে যে এই সমঝোতায় কী শর্ত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে দেশ কী অর্জন করেছে।

চুক্তি ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যেই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি গাড়িতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি এখনো কতটা নাজুক, তারই ইঙ্গিত বহন করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর ২ মার্চ থেকে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। এর জবাবে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

ইরান জানিয়েছে, লেবাননে হামলা বন্ধ করা তাদের সঙ্গে হওয়া যেকোনো সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তবে ইসরায়েল বলছে, আত্মরক্ষার স্বার্থে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তাদের থাকবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার চুক্তির অংশ নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি মূলত একটি পারস্পরিক যুদ্ধবিরতি কাঠামো। যদি হিজবুল্লাহ পুনরায় হামলা চালায়, তাহলে ইসরায়েলের পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার বহাল থাকবে।

জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে হওয়া এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, এর চূড়ান্ত সফলতা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো চুক্তির শর্ত কতটা বাস্তবায়ন করে তার ওপর।