ঢাকা
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আশুরায় তাজিয়া মিছিল ও মাতমে কারবালার শোকস্মরণ, রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬   ২৫ বার পঠিত
আশুরায় তাজিয়া মিছিল ও মাতমে কারবালার শোকস্মরণ, রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা

ছবি: -সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় পবিত্র আশুরা উপলক্ষে শোক, সংযম ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে পুরান ঢাকার হোসেনী দালান ইমামবাড়া প্রাঙ্গণ থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বের হওয়া এই মিছিলে কালো পোশাক, খালি পা, শোকের পতাকা এবং ‘হায় হোসেন’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

ইসলামের ইতিহাসে হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম (৬৮০ খ্রিস্টাব্দ) কারবালার প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ও তাঁর সঙ্গীরা শাহাদাত বরণ করেন। সেই আত্মত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করেই প্রতিবছর মুসলিম বিশ্বে আশুরা পালন করা হয়। বাংলাদেশেও ধর্মীয় অনুশাসন ও শোকানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হচ্ছে।

সকাল থেকেই পুরান ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী, পুরুষ, শিশু ও প্রবীণসহ নানা বয়সী মানুষ হোসেনী দালানে জড়ো হন। কারও চোখে অশ্রু, কারও বুক চাপড়ে মাতম—কারবালার বেদনাবিধুর স্মৃতি যেন নতুন করে ফিরে আসে। সকাল ১০টার কিছু পর আনুষ্ঠানিকভাবে তাজিয়া মিছিল শুরু হয়।

মিছিলের নেতৃত্বদানকারী পারভেজ রেজা বলেন, প্রতি বছর এই দিনে তারা ইমাম হোসেন (রা.)-এর আত্মত্যাগ স্মরণ করেন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে কারবালার ইতিহাস ও সত্যের পক্ষে অবিচল থাকার শিক্ষা তুলে ধরতে চান। তিনি বলেন, কারবালায় সত্য ও ন্যায়ের জন্য যে আত্মত্যাগ হয়েছে, তা মানবতার জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণা।

শোকানুষ্ঠান নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কেউ কেউ এটিকে বিদআত বলে আখ্যা দিলেও তারা ইয়াজিদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং ইমাম হোসেন (রা.)-এর আদর্শের পক্ষে অবস্থান নিয়েই এই শোক পালন করেন। তাই এ ধরনের আয়োজন বন্ধের দাবি তাদের কাছে দুঃখজনক।

মিছিলে অংশ নিতে আসা অনেকের মধ্যে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরও দেখা যায়। কামরাঙ্গীরচর থেকে আসা মাসুদ রানা বলেন, ইমাম হোসেন (রা.)-এর আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তিনি প্রতিবছর এই শোকমিছিলে অংশ নেন।

হাজারীবাগ থেকে সন্তানদের নিয়ে আসা সামিনা রহমান জানান, পারিবারিকভাবে বহু বছর ধরে তারা এই শোকানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, শোক পালনের পাশাপাশি তারা প্রচলিত কিছু ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচারও পালন করেন।

হোসেনী দালান থেকে বের হয়ে মিছিলটি পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আজিমপুর, নিউমার্কেট হয়ে ধানমন্ডির প্রতীকী কারবালা প্রাঙ্গণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। অংশগ্রহণকারীদের ভাষায়, কারবালা শুধু একটি যুদ্ধের স্মৃতি নয়; এটি সত্য, ন্যায়বিচার, ত্যাগ এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষার চিরন্তন সংগ্রামের প্রতীক।

তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ, র‍্যাব, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাদা পোশাকের সদস্যরা পুরো পথে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে আশুরার মিছিলে দা, ছোরা, তলোয়ার, বল্লম, কাঁটাযুক্ত বস্তু, আতশবাজি ও বিস্ফোরকসদৃশ কোনো বস্তু বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল পুলিশ। পাশাপাশি মিছিলের রুটজুড়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশও মোতায়েন করা হয়।

September 2026
SMTWTFS
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930