https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন এক হাজার ৫০০ জনেরও বেশি। দেশটির রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারোদোর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ২৩৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে দেড় হাজারের বেশি মানুষকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে সংঘটিত এই জোড়া ভূমিকম্পকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাস ও লা গুয়াইরা শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু বহুতল ভবন, বাসাবাড়ি ও অবকাঠামো আংশিক বা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত লোকবল ও ভারী উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
লা গুয়াইরার বাসিন্দা ড্যানি রিজো জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা এক কিশোরী দীর্ঘ সময় জীবিত থাকলেও সময়মতো ভারী যন্ত্রপাতি না পৌঁছানোয় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। একই এলাকার আরেক বাসিন্দা আন্তোনিও বেরমুদেজ জানান, একটি ভবনের নিচে তিনজন এখনও জীবিত আটকা রয়েছেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে তাদের উদ্ধার করা যাচ্ছে না।
ভেনেজুয়েলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক উদ্ধারকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উদ্ধারকারী দলের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেস্কিউ কমিটি (আইআরসি)-এর ভেনেজুয়েলা শাখার পরিচালক নিকোল কাস্ট দেশটির বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত বিপর্যয়কর’ বলে মন্তব্য করেছেন।