https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মামলা করেছেন নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনাইদ ইসলাম সিফাত। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে রায়পুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন সিফাত। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় সড়কের একটি বাসায় ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮), তাঁর মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার শিফাকে (১০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহতদের চিৎকার শুনে পাশের বাসিন্দা আফরোজা বেগম রানী জানালা দিয়ে একজনকে ঘরের ভেতরে দেখতে পান। পরে তিনি বাইরে থেকে ভবনের গেট বন্ধ করে দিলে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার ভেতরে আটকা পড়েন। পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ডাকাতির উদ্দেশ্যেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হতে পারে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার আগে একই ভবনের পঞ্চম তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন এবং জানতেন যে বাসার ভাড়া ও কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র শাহিনুর বেগমের কাছেই থাকত।
নিহত শাহিনুর বেগমের ভাই ছানা উল্লাহ দাবি করেন, স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে বের করার আহ্বান জানান তিনি।
মামলার বাদী জুনাইদ ইসলাম সিফাত বলেন, তাঁর মায়ের কাছে ভাড়াটিয়াদের ভাড়া জমা থাকত এবং বাসার দেখভালের দায়িত্বও তিনি পালন করতেন। তাই অর্থ বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।