https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
চল্লিশের পর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কজনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রেন স্ট্রোক, ব্রেন ক্যানসার, মেনিনজাইটিস, পারকিনসন ও মৃগী—এই পাঁচটি রোগ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। সময়মতো লক্ষণ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ব্রেন স্ট্রোক
মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া বা রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হয়। উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, ধূমপান, স্থূলতা ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ এর প্রধান ঝুঁকির কারণ। হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে পড়া, হাত-পা দুর্বল হয়ে যাওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
ব্রেন ক্যানসার
সব ব্রেন টিউমার ক্যানসার নয়। তবে গ্লায়োমাসহ কিছু টিউমার ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। দীর্ঘদিন মাথাব্যথা, খিঁচুনি, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া বা স্নায়বিক সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিউরোসার্জনের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
মেনিনজাইটিস
মস্তিষ্কের সুরক্ষাকারী আবরণী মেনিনজেসে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা পরজীবীর সংক্রমণ হলে মেনিনজাইটিস হয়। তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি, জ্বর ও স্নায়বিক জটিলতা এর লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসায় দেরি হলে এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
পারকিনসন রোগ
শুধু বয়স্কদের নয়, তুলনামূলক কম বয়সেও পারকিনসন হতে পারে। গবেষকদের মতে, জিনগত কারণ, পরিবেশ দূষণ ও খাদ্যে বিষাক্ত উপাদান এ রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এতে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শরীরের নড়াচড়ার নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে কমে যায়।
মৃগী রোগ
মস্তিষ্কের স্নায়ুতে অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের কারণে মৃগী রোগ দেখা দেয়। জিনগত কারণ ছাড়াও মস্তিষ্কে আঘাত বা গঠনগত ত্রুটির কারণে এটি হতে পারে। খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন এ রোগের সাধারণ লক্ষণ। রোগের ধরন নির্ণয়ে এমআরআই ও ইইজি পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান পরিহার, নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং কোনো অস্বাভাবিক স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া মস্তিষ্কের এসব রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।