https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে রুশ বাহিনীর জনবল সংকট। ইউক্রেনের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রাশিয়ার সেনা ঘাটতি বাড়ছে। একই সঙ্গে চাপ বাড়ছে দেশটির অর্থনীতি, জ্বালানি খাত ও সামরিক অবকাঠামোর ওপর। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সৈন্য সংগ্রহে মরিয়া হয়ে উঠেছে মস্কো।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়া অতিরিক্ত এক লাখ সেনা মোতায়েনের চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, রাশিয়া এইভাবেই নতুন সৈন্য খুঁজছে।
ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল ওলেক্সান্দর সিরস্কি বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত সুবিধা এখন অনেকটাই ইউক্রেনের হাতে চলে এসেছে। তার দাবি, ইউক্রেনীয় পাল্টা হামলার চাপ বাড়ায় রুশ বাহিনী বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ছে।
ইউক্রেনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার মোট সামরিক ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৩ হাজার সেনার ক্ষতি “অপূরণীয়” বলে দাবি করা হয়েছে।
এই সংকট মোকাবিলায় রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সেনাবাহিনীতে যোগদানের বোনাস ৩০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি মলদোভার ট্রান্সনিস্ত্রিয়া অঞ্চলের রুশভাষীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইউক্রেনের দাবি, যুদ্ধের প্রভাব এখন রাশিয়ার অর্থনীতিতেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দেশটির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, পুরো বছরের জন্য নির্ধারিত বাজেট ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে মাত্র চার মাসেই বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে তেল ও গ্যাস খাতের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে রাশিয়ার তেল উৎপাদন ও পরিশোধন সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বছরের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার দৈনিক তেল পরিশোধন সক্ষমতার বড় অংশ ক্ষতির মুখে পড়ে। মস্কোর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ও সামরিক সরবরাহ কেন্দ্রও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।