https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নতুন মোড় নিয়েছে। যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিরোধ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছে। একই সময়ে সরকারি সফরে সেখানে গেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির। এর আগে থেকেই তেহরানে অবস্থান করছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাতারের প্রতিনিধিদল ইরানে গেছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সংঘাতের অবসান এবং ইরানকে ঘিরে চলমান বিরোধগুলোর কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েলের পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায়। এতে কাতারও ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। টানা ৪০ দিনের সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
এরপর এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। তবে উভয় পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছে কাতার।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় কাতারের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশটি যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র, তেমনি বহু বছর ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার পর্দার আড়ালের যোগাযোগ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। গাজা যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও দোহা সক্রিয় ছিল।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কাতারের প্রতিনিধিদল সরাসরি যুদ্ধবিরতির রূপরেখা এবং ইরানের সঙ্গে চলমান বিরোধের সমাধান নিয়ে আলোচনা করছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।
ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো দুটি বড় বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। একটি হলো ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, অন্যটি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলেও এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান বর্তমানে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাপ্রধান আসিম মুনির সফরকালে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংলাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ইতোমধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে যুদ্ধ বন্ধ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির সম্ভাব্য প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, কাতার ও পাকিস্তানের সমন্বিত কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যুদ্ধবিরতি কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কত দ্রুত মূল বিরোধগুলোর সমাধানে পৌঁছাতে পারে তার ওপর।