https://timenewsbangla.com

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->
শুক্রবারের সকাল শুরু হয়েছে দেশের দুই মহাসড়কে ভয়াবহ দুটি বাস দুর্ঘটনার খবর দিয়ে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বগুড়া ও সিলেটে পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৬ জন। আহত হয়েছেন আরও ৪০ থেকে ৪৫ জন। নিহতদের মধ্যে যেমন কাজের সন্ধানে বের হওয়া দিনমজুর রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন বাসের যাত্রী ও এক শিশুও।
একই সকালে দেশের দুই প্রান্তে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে।
শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে ঘটে প্রথম দুর্ঘটনাটি। কাজের সন্ধানে শ্রমিকের হাটে জড়ো হওয়া দিনমজুরদের ওপর উঠে যায় একটি যাত্রীবাহী বাস। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজন মারা গেলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।
পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস এরুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এরপর সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিক ও কৃষিশ্রমিকদের ওপর বাসটি উঠে যায়।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
নিহতদের মধ্যে বগুড়া সদর উপজেলার ফাপড় এলাকার বেলাল এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আমিরুল ও নূর আলমের পরিচয় জানা গেছে। অন্যদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
মৃত ও আহতরা সবাই মূলত দিনমজুর। ভোরে এরুলিয়া বাজারে বসা শ্রমিকের হাটে তারা কাজের আশায় এসেছিলেন। রংপুর, গাইবান্ধা, পাবনাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য শ্রমিক এই হাটে জড়ো হন। স্থানীয় কৃষক ও গৃহস্থরা সেখান থেকেই দিনের কাজের জন্য শ্রমিক বেছে নেন।
এক মুহূর্তের একটি দুর্ঘটনায় সেই কর্মজীবী মানুষগুলোর অনেকের জীবনের সব হিসাবই বদলে গেল।
বগুড়ার দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সিলেট-ঢাকা মহাসড়কেও ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর এলাকায় বেঙ্গল ও ইউনিক পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন অন্তত নয়জন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই আটজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যান। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাস এবং সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের বাসটি দয়ামীর এলাকায় পৌঁছালে তাদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
উদ্ধারকাজে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অংশ নেন। আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের বেশির ভাগই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ দুর্ঘটনার জন্য বেঙ্গল পরিবহনের বাসটিকে দায়ী করলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বগুড়ায় শ্রমিকদের ওপর বাস উঠে যাওয়া এবং সিলেটে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ—দুটি দুর্ঘটনার ধরন আলাদা হলেও দুটিতেই সামনে এসেছে সড়কে মানুষের নিরাপত্তার বড় ঝুঁকি।
একদিকে ভোরে কাজের সন্ধানে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের নিরাপত্তা, অন্যদিকে আন্তঃজেলা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের বেপরোয়া চলাচল ও চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ১৬টি প্রাণ ঝরে যাওয়ার এই ঘটনা শুধু দুটি পরিবারের নয়, পুরো দেশের জন্যই সতর্কবার্তা। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পাশাপাশি চালকদের দক্ষতা, যানবাহনের ফিটনেস এবং মহাসড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।