ঢাকা
০৭ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির অভিযোগ, মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ সাত সকালেই সড়কে ঝরল ১৬ প্রাণ, দুই মহাসড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৭ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা, কোথাও হতে পারে ভারী বর্ষণ পোশাক শিল্পে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বে কড়াকড়ি, নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর ট্রাম্পের শেখ হাসিনাকে ভারত কথা বলার সুযোগ কেন দিল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঝ আকাশে প্লেনের দরজা খোলার চেষ্টা, ভারতীয় যাত্রীর অদ্ভুত কাণ্ড বগুড়ায় বাসচাপায় ৬ শ্রমিক নিহত, যান চলাচল বন্ধ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে ডাকা হবে সংসদের বিশেষ অধিবেশন

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির অভিযোগ, মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

ডেস্ক রিপোর্ট
শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬   ০ বার পঠিত
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির অভিযোগ, মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->

শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব এবং তাদের অনলাইন নিরাপত্তা ঝুঁকির অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান মেটাকে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠানটিকে মোট ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড এ নির্দেশ দেন। আদালতের নির্ধারিত অর্থের বড় অংশই শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষায় ব্যয় করা হবে।

রায়ের আওতায় ৪২০ মিলিয়ন ডলার শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। বাকি অর্থ আগামী পাঁচ বছরে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি, মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।

এটি গত মার্চে মেটার বিরুদ্ধে দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের পরবর্তী ধাপ। ওই সময় জুরি বোর্ডের রায়ে বলা হয়েছিল, মেটা জেনেশুনে এমনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করেছে, যা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একই মামলায় শিশুদের যৌন শোষণসংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগও ওঠে। সে সময় মেটার বিরুদ্ধে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

মেটার প্ল্যাটফর্মে শিশুদের ক্ষতির জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে সরাসরি দায়ী করে দেওয়া ওই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হয়। মামলাটির পেছনে ছিল শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ এবং মেটার প্ল্যাটফর্মে ক্ষতিকর কার্যক্রমের অভিযোগ।

মামলার দ্বিতীয় ধাপে প্রসিকিউটররা শুধু অর্থদণ্ড নয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কার্যক্রমে মৌলিক পরিবর্তনের দাবিও জানান। তাদের যুক্তি ছিল, শুধু জরিমানা করলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না; বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থাগুলো পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

আদালত সেই দাবির কিছু অংশও বিবেচনায় নিয়েছেন। বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপত্তা ফিচার, নিরাপদ ব্যবহারের নির্দেশনা এবং অনুপযুক্ত মন্তব্য মোকাবিলার বিভিন্ন ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদর্শন করতে হবে।

শিশুদের বয়স যাচাই ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, আসক্তি তৈরিকারী কিছু ফিচারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুদের যৌন শোষণ ঠেকাতে গোপনীয়তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার বিষয়েও মামলায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিউ মেক্সিকোতে এসব পরিবর্তন বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে হচ্ছে, তা রাজ্য কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে শিশু ও অভিভাবকদের সচেতন করতে শিক্ষামূলক প্রচারাভিযান চালানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

মামলাটির সূত্রপাত হয় শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর। সেখানে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে শিশু পাচার ও যৌন শোষণের জন্য তৈরি অনলাইন নেটওয়ার্কের বিস্তারের বিষয়টি সামনে আসে। এরপর মেটার বিরুদ্ধে শিশুদের সুরক্ষায় যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ আরও জোরালো হয়।

তবে আদালতের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি মেটা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।

মেটার মুখপাত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি প্ল্যাটফর্মকে নিরাপদ রাখতে নিয়মিতভাবে কাজ করছে এবং ক্ষতিকর ব্যক্তি ও কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণে বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তায় নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আত্মবিশ্বাসী বলেও জানানো হয়েছে।

আদালতের এই রায় অবশ্য শুধু মেটার জন্য আর্থিক শাস্তি নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিতর্ককেও নতুন মাত্রা দিয়েছে। শিশুদের দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, আসক্তি তৈরি করা ফিচার, অনুপযুক্ত কনটেন্ট এবং অনলাইন যৌন শোষণের ঝুঁকি—এসব বিষয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায় কতটা, সেই প্রশ্ন এখন আরও জোরালো হয়ে উঠছে।

August 2026
SMTWTFS
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031