https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান সহিংসতার নতুন ও ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মে মাসে বুথিডং এলাকার হৈয়া সিরি গ্রামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত ও নৃশংস। নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ১৭০ জন রোহিঙ্গাকে সেখানে হত্যা করা হয়। এবার এই হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ উঠেছে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে, যারা রাখাইন রাজ্যের স্বাধীনতার দাবিতে লড়াই করছে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়ংকর সব বর্ণনা। হামলার পর গ্রামে ফিরে যাওয়া বেঁচে থাকা রোহিঙ্গারা জানান, চারদিকে ছড়িয়ে ছিল মানুষের কঙ্কাল, খুলি ও দেহাবশেষ। অনেক মরদেহ এতটাই পচে গিয়েছিল যে কেবল হাড়গোড় আর পোশাকের অংশ অবশিষ্ট ছিল। পুরো গ্রামটি যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা জানান, হামলার সময় মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দিকবিদিক ছুটছিল। কেউ কেউ সাদা পতাকা উড়িয়ে নিরাপদে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। আহতদের অনেককেই কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, হামলার পর বাড়িঘর লুট করা হয় এবং পরে আগুন দিয়ে পুরো গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়। স্যাটেলাইট ছবি, ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সংস্থাটি নিশ্চিত হয়েছে যে গ্রামটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।
এই ঘটনায় আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। যদিও গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই অভিযান চালিয়েছে এবং বেসামরিক মানুষদের আগাম সরে যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছিল। তবে বেঁচে ফেরা রোহিঙ্গাদের বক্তব্য সেই দাবির সঙ্গে মিলছে না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি সেখানে বেআইনি আটক, নির্যাতন, লুটপাট, চিকিৎসা সহায়তা বন্ধ রাখা এবং বেসামরিক সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনাও ঘটেছে। নিহত ও নিখোঁজদের তালিকায় প্রায় ৯০ জন শিশুর নাম রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের ডেপুটি পরিচালক মীনাক্ষি গাঙ্গুলি বলেছেন, রাখাইনের চলমান সংঘাত ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। তার মতে, শত শত রোহিঙ্গাকে হত্যা এবং গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্ত ও জবাবদিহি জরুরি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এখনও বহু রোহিঙ্গা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় আটকা পড়ে আছেন। যারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন, তারা নিরাপত্তা ও বিচার দাবি করছেন। তবে এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।
মানবাধিকার সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ নেই। চলমান সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা নতুন করে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।