https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সফরের শুরুতেই দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।
বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ভারত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। কারণ দেশটির মোট জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর এবং এর উল্লেখযোগ্য অংশ আসে এই রুট দিয়ে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে। রুবিও জানিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে ইরানের ওপর নির্ভরশীল হতে দেবে না ওয়াশিংটন এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের জ্বালানি ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু জ্বালানি বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কৌশলগত ও রাজনৈতিক হিসাব। রাশিয়ার কাছ থেকে স্বল্পমূল্যে তেল আমদানির মাধ্যমে ভারত ইতোমধ্যেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে দিল্লিকে ধীরে ধীরে নিজেদের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক বলয়ের দিকে আরও টেনে আনতে।
একই সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং চীনকে মোকাবেলায় আঞ্চলিক জোট ‘কোয়াড’-এর ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা গুরুত্ব পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও দিল্লির মধ্যে কিছু কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হলেও উভয় দেশই সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে আগ্রহী।
এদিকে আগামী দিনে ভারতে কোয়াড বৈঠক এবং সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরেও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে রুবিওর ভারত সফরকে কেবল জ্বালানি বাণিজ্যের উদ্যোগ নয়, বরং বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।