https://timenewsbangla.com

হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি ইরানি তেল ট্যাংকার ধ্বংসের পর ইরানও হরমুজ প্রণালীর আশপাশে অন্তত ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে সমুদ্রপথে এটিই দুই পক্ষের সবচেয়ে বড় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা।
হামলার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। কয়েকটি জাহাজে হামলায় হতাহত ও নিখোঁজের ঘটনাও ঘটেছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, গত এক সপ্তাহে ইরানের ১০টি তেল ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, মার্কিন নৌযানে ইরানি হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা বা হামলার চেষ্টা চালালে আরও ইরানি ট্যাংকার হারাবে।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি ট্যাংকারে গুলি চালিয়েছে। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডস ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার জবাব আরও কঠোর হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একই সঙ্গে চাবাহার পর্যন্ত বিস্তৃত নতুন সামুদ্রিক নিষিদ্ধ এলাকার মানচিত্র প্রকাশের কথাও জানিয়েছে তারা।
ইরান জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিও করেছে। জর্ডানের দাবি, তারা ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, তাদের সব সেনা নিরাপদে আছেন।
এরই মধ্যে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের সংঘাতও তীব্র হচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ—হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগর—ঘিরে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হতো। রিস্টাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত নতুন করে শুরু হওয়ার পর এই পথ দিয়ে দৈনিক তেল পরিবহন প্রায় ৮০–৯০ লাখ ব্যারেল থেকে কমে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেলে নেমেছে।
পরিশোধিত জ্বালানির দামও দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় খুচরা মূল্য বুধবার প্রতি গ্যালনে ৫.৯৪ ডলার ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরান নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তার মতে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হতে পারে, কারণ ইরান আর বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না।