https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় প্রতিদিন ব্যবহার হচ্ছে শক্তিশালী স্ক্যানিং মেশিন। তবে এসব যন্ত্রের কাছাকাছি ঘণ্টার পর ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করা কর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো মেশিনের শিল্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, রেডিয়েশন লিকেজ, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি ও পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব এ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ইকুইপমেন্ট শাখার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে কেবিন ব্যাগেজ স্ক্যানিং, হোল্ড ব্যাগেজ স্ক্যানিং ও এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর মিলিয়ে অর্ধশতাধিক স্ক্যানিং যন্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে ২২টি কেবিন ব্যাগেজ স্ক্যানারের ২০টি এবং ২০টি হোল্ড ব্যাগেজ স্ক্যানারের ১৮টি সচল।
বিমানবন্দর সূত্র বলছে, সাধারণ যাত্রীরা অল্প সময় স্ক্যানারের সংস্পর্শে এলেও অপারেটররা প্রতিদিন শিফট অনুযায়ী দীর্ঘ সময় এসব যন্ত্রের কাছে থাকেন। ক্ষতিগ্রস্ত লেড কার্টেন, শিল্ডিংয়ের ত্রুটি ও সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে তাদের অতিরিক্ত বিকিরণের ঝুঁকি থাকতে পারে।
এক স্ক্যানিং অপারেটরের দাবি, রেডিয়েশন থেকে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ সরঞ্জাম তাদের দেওয়া হয় না। দীর্ঘদিন এভাবে কাজ করায় চোখের সমস্যা ও মাথাব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যার কথাও জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্স-রে আয়নাইজিং রেডিয়েশন হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি ও অতিরিক্ত এক্সপোজারে কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার, চোখের ছানি ও প্রজননস্বাস্থ্যজনিত জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে বিমানবন্দরের স্ক্যানিংয়ে সাধারণত কম মাত্রার রেডিয়েশন ব্যবহৃত হয়; মূল উদ্বেগ ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্র বা অপর্যাপ্ত সুরক্ষা নিয়ে।
কর্মীদের ঝুঁকি ও স্ক্যানারগুলোর নিরাপত্তা মান যাচাইয়ে ১১ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্ক্যানিং মেশিন পরিদর্শন শেষ হয়েছে। লাইসেন্স ও অনুমোদনও যাচাই করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞরা কর্মীদের ব্যক্তিগত ডোসিমিটার দেওয়া, নিয়মিত রেডিয়েশন লিকেজ পরীক্ষা, নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত এবং ত্রুটি ধরা পড়লে মেশিন বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।