ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতপার্থক্য বাড়তে থাকায় ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাতে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারির আশঙ্কায় পেন্টাগন সতর্কতা জোরদার করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ) সম্প্রতি ইসরায়েলের কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স হুমকির মাত্রা সর্বোচ্চ অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন স্তরে উন্নীত করেছে। এর ফলে ইসরায়েল সফরকারী মার্কিন কর্মকর্তাদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সতর্কতার অংশ হিসেবে একবার ব্যবহারযোগ্য ‘বার্নার ফোন’, অস্থায়ী কম্পিউটার এবং কঠোর যোগাযোগ প্রোটোকল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলে অবস্থানকালে হোটেল কক্ষ বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা থেকেও বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং ইরান বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে ইসরায়েল আগ্রহী হতে পারে। ডিআইএর একটি অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন নথিতেও ইসরায়েলের তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত দেশটির দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে না ইসরায়েল। তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা কেবল শত্রুদের লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়।
হোয়াইট হাউসও প্রতিবেদনের তথ্য প্রত্যাখ্যান করেছে। এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এসব তথ্য এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে, যাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রত্যক্ষ জ্ঞান নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থানের পার্থক্য সাম্প্রতিক সময়ে আরও স্পষ্ট হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন যেখানে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে, সেখানে নেতানিয়াহু সরকার ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার পক্ষে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই দুই মিত্র দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং গোয়েন্দা উদ্বেগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।