পাঁচ শতাব্দীরও বেশি সময়ের ইতিহাস বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরের ঐতিহাসিক দুর্গামাতা মন্দির। প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী, ১৪৮০ খ্রিষ্টাব্দে তাহেরপুরের রাজা কংস নারায়ণ রায়ের উদ্যোগে এখানে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়। তবে দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী এই মন্দির এখনো জাতীয় পর্যায়ে সংরক্ষিত স্থাপনার স্বীকৃতি পায়নি। সংস্কারের অভাব, জমি নিয়ে জটিলতা ও প্রবেশপথের সমস্যায় ম্লান হচ্ছে এর ঐতিহ্য।

স্থানীয়দের মতে, রাজপণ্ডিত রমেশ শাস্ত্রীর পরামর্শে রাজা কংস নারায়ণ রায় দুর্গোৎসবের আয়োজন করেন। প্রচলিত বিবরণে, সেই আয়োজনের ব্যয় ছিল ৯ লাখ ১ টাকা।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক চিরঞ্জীব রায় বাবু জানান, ১৯৬৭ সালে রাজবাড়িতে কলেজ প্রতিষ্ঠার পর মন্দিরটি ধীরে ধীরে অবহেলার শিকার হয়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১২ সাল থেকে সেখানে আবার পূজা শুরু হয়। ২০১৮ সালে মন্দিরে প্রায় ২৫ মণ ওজনের অষ্টধাতুর দুর্গাপ্রতিমা স্থাপন করা হয়। প্রতিমাটিতে নিয়মিত পূজা হলেও বিসর্জন দেওয়া হয় না।

মন্দির কমিটির অভিযোগ, মন্দিরের জন্য নির্ধারিত তিন একর জমির প্রায় দুই একর কলেজের সীমানার মধ্যে এবং বাকি এক একর স্থানীয়দের দখলে রয়েছে। বর্তমানে অন্যের জমির ওপর দিয়ে মন্দিরে যাতায়াত করতে হয়। প্রধান ফটক নিয়েও রয়েছে জটিলতা।

স্থানীয় বাসিন্দা রতন কুমার সাহা বলেন, মন্দিরটি এলাকার গর্ব। জমি উদ্ধার, সংস্কার ও নিরাপদ প্রবেশপথ নিশ্চিত করা গেলে এটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয়দের মতে, মন্দিরটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিরূপণ করে জাতীয় স্বীকৃতি ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি ঐতিহাসিক গ্যালারি বা জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দিয়েছেন সংস্কৃতিকর্মীরা।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, মন্দিরটির সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং জমি ও প্রবেশপথের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।