আগামী বছর এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি আরও ধীর হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে জ্বালানি খাতে সৃষ্ট ধাক্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ঘিরে অতিরিক্ত বিনিয়োগের সম্ভাব্য সংশোধন এবং বিশ্ববাজারে বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধিকে এ অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিবিষয়ক প্রতিবেদনে আইএমএফ জানায়, ২০২৬ সালে এশিয়ার অর্থনীতি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। তবে ২০২৫ সালে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় এ গতি কম। যদিও নতুন পূর্বাভাস এপ্রিলের তুলনায় বেশি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়ার উন্নত অর্থনীতিগুলোতে এআই প্রযুক্তির প্রসার প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। এ কারণে এসব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে। অন্যদিকে, উদীয়মান এশীয় অর্থনীতিগুলো প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি থাকলেও জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাবে তাদের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ৫ দশমিক ১ শতাংশে নামতে পারে।
আইএমএফ সতর্ক করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। এতে তেলের মজুদ কমে যাওয়ার পাশাপাশি এশিয়ার অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা মুদ্রার বিনিময় হার ও পুঁজিপ্রবাহেও প্রভাব ফেলছে। এরই মধ্যে কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রার ওপর অবমূল্যায়নের চাপ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতির গতিপথ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। দেশটির সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা এবং উন্নত অর্থনীতিগুলোতে আর্থিক নীতি কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা এশিয়ার আর্থিক বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে। পাশাপাশি সরকারি ঋণের চাপ বাড়লে বৈশ্বিক বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধির প্রভাব এশিয়ার বাজারেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আইএমএফের মতে, বন্ডের ইল্ড বেড়ে গেলে সরকারগুলোর ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়বে। এশিয়ার অনেক দেশে সরকারি ঋণ ও নতুন ঋণের প্রয়োজন ইতিমধ্যে বেশি থাকায় পরিস্থিতির আকস্মিক অবনতি সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি খাতের শেয়ার থেকে পুঁজি বেরিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও আঞ্চলিক পুঁজিবাজারের অস্থিরতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এআই খাতেও ঝুঁকি দেখছে আইএমএফ। এ প্রযুক্তিকে ঘিরে বিনিয়োগ ও প্রত্যাশায় বড় ধরনের সংশোধন হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এশিয়ার অনেক দেশ এআই-সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকায়, বাজারে বড় ধরনের দরপতন হলে তাদের ওপর প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়তে পারে।
এ পরিস্থিতিতে এশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগী থাকার এবং মূল্যস্ফীতির চাপ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। পাশাপাশি সরকারি আর্থিক নীতিকে সুনির্দিষ্ট ও সাময়িক রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। জ্বালানির ওপর ঢালাও ভর্তুকি বা মূল্য নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে ব্যয় বাড়াতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তারা।

মন্তব্য করুন