দেশের বিমানবন্দরগুলোতে উড়োজাহাজের সঙ্গে পাখির সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসেই এমন ঘটনা ঘটেছে ২১২টি, যা গত বছরের পুরো সময়ের তুলনায় মাত্র ২৭টি কম। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ, প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ এবং নজরদারি ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সব চালু বিমানবন্দরে কার্যকর পাখি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে আটটি বিমানবন্দরের জন্য মোট ২৬টি পাখি তাড়ানোর বন্দুকের প্রয়োজন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য ছয়টি এবং চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য চারটি করে বন্দুক প্রয়োজন। অন্য চারটি বিমানবন্দরের প্রতিটিতে লাগবে দুটি করে।

তবে বর্তমানে বেবিচকের কাছে থাকা ১১টি বন্দুকের মধ্যে সচল মাত্র দুটি। একইভাবে পাখি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজন ৬৪ জন কর্মী, অথচ অনুমোদিত পদ রয়েছে মাত্র ১০টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন চারজন। এই সংকট কাটাতে জনবল কাঠামো পর্যালোচনা করছে কর্তৃপক্ষ।

বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম জানিয়েছেন, সরঞ্জাম ও জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি বিমানবন্দরগুলোতে আধুনিক পাখি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাকা বিদ্যমান ব্যবস্থাকে অন্য বিমানবন্দরগুলোর জন্য নমুনা হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

এদিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও যশোর বিমানবন্দরে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পাখি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। পাশাপাশি বিমানবন্দরের আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার, আবর্জনা ফেলার স্থান সরিয়ে নেওয়া এবং পাখির খাবারের উৎস কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বেবিচকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিমানবন্দরগুলোতে পাখির সঙ্গে উড়োজাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ২১২টি। ২০২৫ সালে পুরো বছরে এমন ঘটনা ছিল ২৩৯টি।

সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে এখানে পাখির আঘাতের ঘটনা ১৬৮টি, যা গত বছরের পুরো সময়ের ১৫৭টি ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

সামনে শীত মৌসুমে পাখির চলাচল বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে উড়োজাহাজের ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, ফ্লাইটের সময়সূচি ব্যাহত হওয়া কিংবা জরুরি অবতরণের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করছে বেবিচক।