হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারসাইডে যানবাহন চলাচল ও ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) নিয়ে প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদকে বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটির দাবি, পরিচালনগত সুরক্ষা জোরদারে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিকে সামগ্রিক নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবাদলিপিতে বেবিচক জানায়, বিমানবন্দরের এয়ারসাইড একটি সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত এলাকা। সেখানে অনুমোদন ছাড়া কোনো যানবাহন প্রবেশ বা চলাচল করতে পারে না। অনুমোদিত যানবাহনগুলোও নির্ধারিত সুরক্ষাবিধি মেনে চলে।

সংস্থাটি আরও জানায়, রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের মতো নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যানবাহন প্রবেশের আগে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। ফলে এয়ারসাইডে যানবাহন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাচল করছে—এমন ধারণা সঠিক নয় বলে দাবি বেবিচকের।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম সংযোজনের উদ্যোগ বিমানবন্দরের পরিচালনগত সুরক্ষা আরও জোরদার করার অংশ। এটি নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঘাটতির স্বীকারোক্তি নয়। বেবিচকের মতে, উড্ডয়ন সুরক্ষা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পৃথক বিষয়। প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে এ দুটির পার্থক্য যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।

বেবিচক জানিয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিট কার্যক্রম চলছে। এ সময়ে উড্ডয়ন সুরক্ষাসংক্রান্ত প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সংকট হিসেবে উপস্থাপন করা হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাত সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।

প্রতিবাদলিপিতে ‘বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি’ ও ‘অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল’-এর মতো শব্দ ব্যবহারে আপত্তি জানিয়ে কারিগরি বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই ও বাস্তব পরিস্থিতির যথাযথ ব্যাখ্যার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

বেবিচক বলেছে, গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনকে তারা স্বাগত জানায়। তবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ অনভিপ্রেত।