দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি বছরের শেষেই ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে সহায়তা বন্ধ হলেও ইসরায়েলের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এ ঘোষণা দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ইসরায়েলকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। কিন্তু ইসরায়েলের এখন আর এই অর্থের প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি, দেশটিকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিজেই সামরিক সহায়তা বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যদিও এর আগে নেতানিয়াহু আগামী ১০ বছরে ধাপে ধাপে মার্কিন সহায়তা কমানোর প্রস্তাব করেছিলেন।
ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা কার্যকর হলে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যাবে এই সহযোগিতা।
এদিকে, ঘোষণাটি ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিস্ময় তৈরি করেছে। দেশটির বিরোধী নেতারা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের কৌশলগত সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট বলেছেন, এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আগেই অবহিত করা উচিত ছিল। অন্যদিকে, ইয়ার গোলান এই পরিস্থিতির জন্য নেতানিয়াহুর নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রায় ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা পেয়েছে ইসরায়েল। এ অর্থ দিয়ে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম কেনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতেও আরও ৫০ কোটি ডলার দিয়েছে ওয়াশিংটন।

মন্তব্য করুন