একসময় চারদিকে ছিল পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি আর মনোরম লেক। ছবির মতো সুন্দর সেই জনপদে ছিল মানুষের বসতি, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও প্রার্থনার স্থান। কিন্তু তামার খনির শিল্পবর্জ্য ধীরে ধীরে গ্রাস করেছে পুরো এলাকাকে। রোমানিয়ার ছোট্ট শহর গিয়ামানায় এখন কেবল বিষাক্ত বর্জ্যের বিস্তার। আর সেই বর্জ্যের মধ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে একটি পুরোনো গির্জার চূড়া, যা হারিয়ে যাওয়া শহরটির শেষ স্মারক।
রোমানিয়ার আপুসেনি পর্বতমালার কাছে অবস্থিত গিয়ামানার এই করুণ পরিণতির শুরু ১৯৭৭ সালে। সে সময় দেশটির কমিউনিস্ট সরকার তামা উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়। এর অংশ হিসেবে গ্রামের কাছাকাছি একটি তামার খনি ও প্রক্রিয়াকরণকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। খনি থেকে উৎপন্ন বিপুল বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন হয় বিশাল জলাধার।

এ উদ্দেশ্যে গ্রামের জমি অধিগ্রহণ করে বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রায় ৩০০ পরিবার নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। তবে কয়েকটি পরিবার শেষ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেছিল। পরে বর্জ্য ও পানির স্তর বাড়তে থাকায় তাদেরও এলাকা ছাড়তে হয়।

খনি কার্যক্রম শুরুর পর তামা প্রক্রিয়াকরণের বিষাক্ত বর্জ্য জমা হতে থাকে গ্রামের উপত্যকায়। কয়েক দশকে সেই বর্জ্য ঢেকে ফেলে বাড়িঘর, কৃষিজমি ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ। হারিয়ে যায় একসময়ের সুন্দর জনপদ।

বর্তমানে গিয়ামানায় গেলে চোখে পড়ে অস্বাভাবিক রঙের কাদাময় বিশাল জলাধার। চারপাশে বিষাক্ত বর্জ্যের স্তূপ। এর মাঝখানে দৃশ্যমান পুরোনো গির্জার চূড়া।

গিয়ামানার এই ঘটনা শুধু একটি গ্রামের হারিয়ে যাওয়ার গল্প নয়; এটি অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও পরিবেশ ধ্বংসের ভয়াবহ পরিণতিরও উদাহরণ। অর্থনৈতিক উন্নয়নের নামে কীভাবে একটি জনপদের মানুষের ঘরবাড়ি, স্মৃতি ও অস্তিত্ব বিলীন হতে পারে, গিয়ামানা তারই নির্মম সাক্ষী।