তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘মক্কা প্যাক্ট’ অনুমোদন করেছে তুরস্কের পার্লামেন্ট। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সাধারণ অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর চুক্তি-সংশ্লিষ্ট বিলটি পাস হয়। এর ফলে তিন দেশের মধ্যে কৌশলগত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কার্যকরের পথ আরও এগিয়ে গেল।
পার্লামেন্টের অধিবেশনে তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) আইনপ্রণেতা জিয়া আলতুনিয়েলদিজ বলেন, এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা। তিনি জানান, চুক্তিটি কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে নয়। বরং এর লক্ষ্য সংঘাত উসকে দেওয়া নয়, সংঘাত প্রতিরোধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

তবে চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)। দলটির আইনপ্রণেতা মেহমেত গুজেলমানসুর চুক্তির আওতা ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, তুরস্কের বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে যেন এই চুক্তির কোনো বিরোধ তৈরি না হয়, সে জন্য স্পষ্ট নিয়ম ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এর আগে গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত এক ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তির আওতায় তিন দেশ যৌথ নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করে।

তুরস্কের পার্লামেন্টে অনুমোদনের মধ্য দিয়ে চুক্তিটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো। এখন তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা কীভাবে এগিয়ে যায়, সেদিকে নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।