এদিন সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। এর আগে বৃহস্পতিবার ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল এমভি বারো আউলিয়া। জাহাজটি রাতেই কক্সবাজারে ফিরে আসে।
জাহাজ সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার এমভি বারো আউলিয়ায় ৬১৯ জন, এমভি কর্ণফুলীতে ৩৮৭ জন এবং এমভি টেকনাফে ৫৪৮ জন পর্যটক রয়েছেন। দুপুরের মধ্যে তাঁদের সেন্টমার্টিনে পৌঁছানোর কথা।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত অনুমোদিত তিনটি জাহাজ নিয়মিত চলাচল করবে। এসব জাহাজের সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৩০০ জন। তবে প্রতিদিন সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক যাওয়ার অনুমতি থাকায় প্রয়োজনে জাহাজের সংখ্যা বাড়তে পারে।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় নুনিয়ারছড়া ঘাটে জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
পর্যটকদের জন্য এবার ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি, ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি ও বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ এবং সামুদ্রিক প্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইক চলাচলও নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।
পর্যটকদের অনেকেই ভ্রমণে আনন্দ প্রকাশ করলেও টিকিটের দাম নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, সাধারণ ভ্রমণপিপাসু মানুষের সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে ভাড়া নির্ধারণ করা উচিত।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সেন্টমার্টিনের ভঙ্গুর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সরকারি বিধিনিষেধ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।

মন্তব্য করুন