https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ভারতে শিক্ষার্থী আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। তার সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নয়াদিল্লিতে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগের দিন সিজেপির নেতৃত্বে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার পর কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়াতেই এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভের আগে রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যা ঘটেছে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত।
রাহুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী কেন এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না এবং পুলিশের হাতে আহত শিক্ষার্থীদের কাছে কেন দুঃখ প্রকাশ করছেন না—সেই প্রশ্নের জবাব দেশ জানতে চায়। তার ভাষায়, শিক্ষার্থীদের ওপর এই আচরণ অযৌক্তিক এবং তা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
এনডিটিভির তথ্যমতে, রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী পরে দিল্লির আরএমএল হাসপাতালে গিয়ে আহত বিক্ষোভকারীদের খোঁজখবর নেন।
সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে মঙ্গলবার সকালে লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ এবং চলমান পরীক্ষা-সংকট নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল বলেন, বিরোধী দলের সাংসদদের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো সহিংসতা এবং এ বিষয়ে সরকারের জবাবদিহির অভাব নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ন্যায্য প্রশ্ন তোলার কারণেই শিক্ষার্থীদের মারধরের শিকার হতে হয়েছে। সংসদ যদি দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে না পারে, তাহলে তার উদ্দেশ্য কী—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রাহুল গান্ধী বলেন, বিরোধী দল শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে এবং এই বিষয়টি চাপা পড়তে দেবে না। রাস্তায় ও সংসদে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি অঙ্গীকার করেন।