জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানকে মঙ্গলবার গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সংবেদনশীল তথ্য পাচারের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে বলে সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন।

ফেডারেল কৌঁসুলিদের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা ‘বিএনডি’ (BND)-র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অগাস্ট হ্যানিংয়ের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের চেষ্টা’ ও ‘গুপ্তচরবৃত্তি’র মতো অভিযোগ রয়েছে।

হ্যানিংয়ের সাবেক চিফ অফ স্টাফ—যাঁর নাম আংশিকভাবে ‘ম্যানফ্রেড ডি.’ (Manfred D.) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—তাঁকেও ‘রাষ্ট্রদ্রোহের চেষ্টা ও রাষ্ট্রদ্রোহমূলক গুপ্তচরবৃত্তিতে সহায়তা ও প্ররোচনা’ দেওয়ার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজধানী বার্লিনসহ বেশ কয়েকটি স্থানে এই দুই ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

কৌঁসুলিরা জানান, ম্যানফ্রেড ডি. ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত হ্যানিংয়ের উত্তরসূরিদের চিফ অফ স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই পদে থাকার সুবাদে তিনি গোপনীয় তথ্যের নাগাল পান এবং পরে ‘অর্থের বিনিময়ে’ সেসব তথ্য হ্যানিংয়ের কাছে পৌঁছে দেন।

কৌঁসুলিদের মতে, “প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে যে, দীর্ঘ সময় ধরে ম্যানফ্রেড ডি. হ্যানিংকে প্রায় দুই হাজার নথিপত্র সরবরাহ করেছিলেন। এর মধ্যে অনেক নথিতেই এমন গোপনীয় তথ্য ছিল যা শুধুমাত্র ফেডারেল গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল।”

তাঁদের অভিযোগ, “একবার হ্যানিং একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার জন্য বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন তৈরির কাজে গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করেছিলেন”; তবে সেই তথ্য বা নথিপত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে আদৌ পৌঁছেছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।

হ্যানিংয়ের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি “অন্য একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধির সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন এবং বেশ কয়েক বছর ধরে তাঁকে রাজনৈতিক তথ্য সরবরাহ করেছিলেন—যার কিছু অংশ ম্যানফ্রেড ডি.-র দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।”