ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুধবার জানিয়েছেন যে, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভের সময় পুলিশ কর্তৃক ‘স্টান গ্রেনেড’ (এক ধরণের শব্দ ও আলো সৃষ্টিকারী গ্রেনেড) ব্যবহারের বিষয়টি স্থগিত করা হয়েছে। দেশজুড়ে কয়েক দিন ধরে চলা বিক্ষোভে মাঝে মাঝে সহিংসতা এবং পুলিশের কঠোর আচরণের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে উন্নত পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার দাবিতে মঙ্গলবার ফ্রান্সজুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সংকট নিরসনের উপায় খুঁজতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লেকর্নু এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সাথে জরুরি বৈঠক করেন।
লেকর্নুর কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার দিনের পরবর্তী সময়ে তিনি স্কুল-সংক্রান্ত বিক্ষোভ এবং দেশের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে জনসমক্ষে বক্তব্য রাখবেন।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ বুধবার সকালে রেডিও স্টেশন আরটিএল (RTL)-কে জানান যে, বিক্ষোভের সময় পুলিশের স্টান গ্রেনেড ব্যবহারের বিষয়টি তিনি স্থগিত করেছেন।
সোমবার পুলিশের ছোড়া একটি স্টান গ্রেনেডের আঘাতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর তার একটি হাত হারায়।
এছাড়া উত্তর-পশ্চিম প্যারিসে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী এত কাছ থেকে ছোড়া টিয়ার গ্যাস গ্রেনেডের আঘাতে মুখে আঘাত পায় যে তার বেশ কয়েকটি দাঁত পড়ে যায়। ওই ঘটনায় মঙ্গলবার এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
নুনেজ জানান, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগের বিষয়ে ১৮টি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়। ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত শত শত উচ্চ বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটের অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা স্কুলগুলোর প্রবেশপথ অবরোধ করতে শুরু করে।
পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগের মধ্যেই মঙ্গলবার রাজধানী প্যারিস ও অন্যান্য শহরে অভিভাবক, শিক্ষক এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা এই বিক্ষোভে যোগ দেন।
মূলত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হলেও, কোথাও কোথাও পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার লেকর্নু এই সহিংসতার নিন্দা জানান এবং আইনপ্রণেতাদের বলেন যে, সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না। একইসাথে তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর “পুলিশি দমন-পীড়ন” চালানোর সরকারি নির্দেশের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন।
এ পর্যন্ত ৬,৫০০-এরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

মন্তব্য করুন