বলিউডের পর্দায় কখনো কঠোর, কখনো আবেগপ্রবণ চরিত্রে দর্শকের হৃদয় জয় করেছেন নানা পাটেকর। পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে বিপুল খ্যাতি ও অর্থ পেলেও ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন একেবারেই সাদাসিধে। বিলাসবহুল জীবনযাপনের বদলে মানুষের পাশে দাঁড়ানোতেই বেশি আগ্রহী ছিলেন এই অভিনেতা।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নানা পাটেকর নিজের উপার্জনের প্রায় ৯০ শতাংশই বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় বা দান করতেন। মহারাষ্ট্রের কৃষক থেকে শুরু করে বন্যাকবলিত মানুষ ও অসহায় রোগীদের সহায়তায় বিভিন্ন সময়ে এগিয়ে এসেছেন তিনি। তার উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘নাম ফাউন্ডেশন’ কৃষক ও প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে কাজ করে।
অভিনয়ের মাধ্যমে প্রথম সারির তারকাদের কাতারে উঠে এলেও জীবনযাপনে তার সেই তারকাসুলভ আড়ম্বর ছিল না। ক্যারিয়ারের মধ্যগগনেও মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে মায়ের সঙ্গে একটি এক কামরার ফ্ল্যাটে থাকতেন নানা। কয়েক দশক আগে প্রায় ১ দশমিক ১ লাখ রুপিতে কেনা ওই ফ্ল্যাটেই দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন তিনি।
সবুজ ও কৃষিকাজের প্রতি ছিল তার বিশেষ টান। পুনেতে প্রায় ২৭ একর জমিতে একটি ফার্মহাউস গড়ে তোলেন নানা। সেখানে নিজেই চাষাবাদ করতেন। স্থানীয় মানুষের জীবিকার সঙ্গেও যুক্ত ছিল ফার্মহাউসটি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেখান থেকে পাওয়া আয়ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে গোয়ার ডোনা পাউলায় একটি বাড়ি কিনলেও শহরের কোলাহল থেকে দূরে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন নানা। মুম্বাই, পুনে ও গোয়ার বাড়ির মধ্যে সময় ভাগ করে নিলেও পুনের ফার্মহাউসই ছিল তার পছন্দের জায়গাগুলোর একটি।
ক্যারিয়ারের শেষ দিকে ছবিপ্রতি প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি রুপি পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৫০ থেকে ৮০ কোটি রুপি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হলেও জীবনযাপনে তার ছাপ খুব একটা দেখা যায়নি। এমনকি এত বড় তারকা হয়েও তার মালিকানায় ছিল মাত্র তিনটি গাড়ি—কোনোটিই ছিল না অতিমূল্যের বিলাসবহুল মডেল।
তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, চারবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার ও পদ্মশ্রী পাওয়া নানা পাটেকরের পরিচয় শুধু একজন শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে নয়। অর্থ ও খ্যাতির মোহের বাইরে থেকে সাধারণ জীবন বেছে নেওয়া এবং নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণেও তিনি হয়ে উঠেছিলেন ব্যতিক্রমী এক ব্যক্তিত্ব।

মন্তব্য করুন