স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও দেনমোহর পরিশোধ না করে স্ত্রীকে তা আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য করা হলে, পারিবারিক আদালত স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (৭ অক্টোবর) মামলাসংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা এ তথ্য জানান। গত ৩ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. আব্দুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ২২ লাখ টাকা দেনমোহরে ইয়াকুব আলীর সঙ্গে তানজিদা নাসরিনের বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং স্বামী তাকে তালাক দেন।

২০১৯ সালে বকেয়া দেনমোহর, ইদ্দতকালীন খোরপোশ ও সন্তানের খোরপোশ দাবি করে স্ত্রী চট্টগ্রাম পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। ২০২২ সালে আদালত দেনমোহর বাবদ ১৮ লাখ, ইদ্দতকালীন খোরপোশ ৩০ হাজার এবং সন্তানের বকেয়া খোরপোশ ২ লাখ ১০ হাজার টাকাসহ মোট ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সন্তানের জন্য মাসে ৭ হাজার টাকা খোরপোশ দেওয়ার আদেশ হয়।

স্বামী এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও পরে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, ইতোমধ্যে ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন এবং আর্থিক সংকটের কারণে অবশিষ্ট টাকা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চান।

হাইকোর্ট আবেদনটি খারিজ করে অধস্তন আদালতের রায় বহাল রাখেন। আদালত বলেন, স্ত্রী স্বেচ্ছায় ও সচেতনভাবে দেনমোহর মওকুফ করলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে চাপ, প্রতারণা বা অনুচিত প্রভাবের মাধ্যমে নেওয়া মওকুফ বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে না।

আদালত আরও বলেন, সন্তানের খোরপোশ নির্ধারণে মূল্যস্ফীতি, আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়া যৌক্তিক। মামলায় অধস্তন আদালতের রায়ে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো আইনগত ত্রুটি পাওয়া যায়নি।