কখনো কাজের চাপ, কখনো ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন, আবার কখনো প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার কারণে মন খারাপ হতে পারে। অনেক সময় প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বললে, পছন্দের কাজ করলে কিংবা পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে মন ভালো হয়ে যায়। কিন্তু মন খারাপ যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, কোনো কিছুতেই আনন্দ না লাগে এবং দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ, সাধারণ বিষণ্ণতা ও ডিপ্রেশনের মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু পার্থক্য।

মন খারাপ আর ডিপ্রেশন কি এক?

মন খারাপ মানুষের স্বাভাবিক আবেগের অংশ। জীবনের কোনো ঘটনা বা হতাশা থেকে সাময়িক বিষণ্ণতা তৈরি হতে পারে। সাধারণত সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হলে এই অনুভূতিও কমে আসে।

অন্যদিকে, ডিপ্রেশন একটি মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা। এতে দীর্ঘস্থায়ী মন খারাপের পাশাপাশি আগ্রহ, উদ্যম ও আনন্দ অনুভবের ক্ষমতা কমে যেতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ডিপ্রেশনের ৫টি লক্ষণ

১. দীর্ঘদিন মন খারাপ থাকা

সাধারণ মন খারাপ সময়ের সঙ্গে কমে যেতে পারে। কিন্তু ডিপ্রেশনের ক্ষেত্রে দিনের বেশির ভাগ সময় মন খারাপ থাকা বা আগ্রহ হারানোর মতো উপসর্গ প্রায় প্রতিদিন দেখা দিতে পারে। অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে এমন পরিস্থিতি চললে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

২. পছন্দের কাজেও আনন্দ না পাওয়া

আগে যে কাজগুলো করতে ভালো লাগত, সেগুলোতেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলা ডিপ্রেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, গান শোনা কিংবা শখের কাজেও আনন্দ না পেতে পারেন।

৩. ঘুম ও খাওয়াদাওয়ায় পরিবর্তন

ডিপ্রেশনের কারণে ঘুম কমে যেতে পারে, আবার প্রয়োজনের তুলনায় বেশিও ঘুম হতে পারে। একইভাবে ক্ষুধা কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে ওজনের ওপরও।

৪. ক্লান্তি ও মনোযোগের অভাব

পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও ক্লান্তি অনুভব করা, কাজে মন বসাতে না পারা, সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হওয়া কিংবা দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখা দিতে পারে।

৫. নিজেকে মূল্যহীন মনে হওয়া

নিজেকে অযোগ্য ভাবা, অতিরিক্ত অপরাধবোধ, ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা কিংবা নিজের প্রতি নেতিবাচক ধারণা ডিপ্রেশনের লক্ষণ হতে পারে। কখনো কখনো মৃত্যুর চিন্তা বা নিজেকে আঘাত করার ভাবনাও দেখা দিতে পারে।

মন খারাপ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলা ভালো। ডিপ্রেশনের চিকিৎসায় ব্যক্তির অবস্থা অনুযায়ী মনোচিকিৎসা, ওষুধ অথবা উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। নিয়মিত ঘুম, সুষম খাবার, শরীরচর্চা এবং কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলা মানসিক সুস্থতায় সহায়ক হলেও এগুলো প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়।