পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মঙ্গলবার কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থকদের ওপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও তাজা গুলি চালিয়েছে বলে দলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খানের দলের প্রাদেশিক সরকার স্থগিতের জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়; তবে প্রাদেশিক প্রশাসন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
জঙ্গি সহিংসতা বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার রবিবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করে এবং প্রদেশটিকে সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দাবি করেছে যে, রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতা দখলের জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রাদেশিক প্রশাসনের তথ্য বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সমর হারুন বিলুর রয়টার্সকে দেওয়া এক লিখিত জবাবে বলেছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে তাজা গুলি চালানোর অভিযোগ “ভিত্তিহীন ও বানোয়াট”। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই -এর মাধ্যমে তৈরি ফুটেজ ব্যবহার করে বেনামী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এসব তথ্য ছড়ানো হয়েছে।
তিনি জানান, দাঙ্গা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ সংযত ও যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ইমরান খানের সহযোগী ও পিটিআই-এর মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ কিছু ভিডিও শেয়ার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এসব ভিডিও ‘বারা বাজার’-এর সহিংসতার সাথে সম্পর্কিত। তিনি জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসনকে এক ধরণের ‘অভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করেছেন যে, এই পরিস্থিতি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
রয়টার্স স্বাধীনভাবে ওই ফুটেজ বা গোলাগুলির ঘটনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
দলের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, প্রদেশে সংঘটিত এসব সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাটি ঘটেছে বারা এলাকায়, যা প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ার থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল) দূরে অবস্থিত।
পিটিআই-এর তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ইকরাম খাতানা জানিয়েছেন, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা বারায় অবস্থিত ‘ন্যাশনাল ডেটাবেস অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অথরিটি’ (নাদরা)-র কেন্দ্রে আগুন দিয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী অফিসগুলোতে হামলা চালিয়েছে। বিলুর জানিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দিসহ তদন্তের মাধ্যমে নাদরা-র ওই ঘটনার দায়ভার নিশ্চিত করা হবে।
পিটিআই-এর একমাত্র প্রাদেশিক সরকারটি ভেঙে দেওয়া ইমরান খানের জন্য সর্বশেষ বড় ধাক্কা; তিনি ২০২৩ সাল থেকেই কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে দাঙ্গা উসকে দেওয়া, দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী, তিন বোন এবং বহু দলীয় কর্মীও বর্তমানে আটক রয়েছেন।
ইমরান খান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

মন্তব্য করুন