মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টিপাতে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে; এতে অনেক গাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং এক ব্যাংক কর্মী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন বলে তাঁর নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে।

সরকার বন্যা-পানি নিষ্কাশনের জন্য জরুরি কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দিয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী রাজধানীর রিং রোড বন্ধ ঘোষণা করেছে।

জুমহুরিয়া ব্যাংক মঙ্গলবার জানিয়েছে যে, ত্রিপোলিতে ব্যাংকের সদর দপ্তরে প্রবেশের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাদের এক কর্মী মারা গেছেন; বন্যার পানি বৈদ্যুতিক সংযোগের বাক্সে (ইউটিলিটি বক্স) ঢুকে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঝুঁকি কমাতে ‘জেনারেল ইলেকট্রিসিটি কোম্পানি’ ত্রিপোলির কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, গাড়িগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সময় চালকরা শেষ মুহূর্তে কোনোমতে বেরিয়ে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা ছবি অনুযায়ী, শহরের কেন্দ্রস্থলের অন্যান্য ভবনও প্লাবিত হয়েছে; এর মধ্যে কেন্দ্রীয় হাসপাতালও রয়েছে, যার করিডোরগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছিল।

সোমবার সন্ধ্যায় ‘ন্যাশনাল মেটিওরোলজিক্যাল সেন্টার’ দেশের সমগ্র উত্তরাঞ্চলজুড়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল এবং শুষ্ক নদীর খাত (ওয়াদি) ও উপত্যকার কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছিল।

প্রতি গ্রীষ্মে বৃষ্টির আগে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ম্যানহোল পরিষ্কার করে শহরের রাস্তাঘাট প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করে; কারণ মরুভূমি থেকে উড়ে আসা বালিতে এগুলো প্রায়ই বন্ধ হয়ে যায়। এত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রাস্তাঘাট নিয়মিতভাবেই প্লাবিত হয়।

মঙ্গলবার সকালে পৌরসভার ট্রাক এবং ত্রিপোলির সড়ক বিভাগের কর্মীরা রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে পুরোদমে কাজ করছিলেন; তাঁরা প্রবল স্রোতের সাথে শহরে ভেসে আসা কাদা ও আবর্জনা পাম্প করে অপসারণ করছিলেন।