ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে সামরিক সহযোগিতা চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের এই অনুরোধের পর মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের নৌবাহিনীর কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়টি পর্যালোচনা করছে সিউল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদপত্র ‘কিউংহিয়াং শিনমুন’। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের জলদস্যুবিরোধী নৌবাহিনী ‘চেওংহে ইউনিট’-এর কার্যক্রম ওমান উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এই উপসাগর হরমুজ প্রণালির সঙ্গে সংযুক্ত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের প্রশাসন ইউনিটটির কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে পার্লামেন্টে প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বর্তমান মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে একটি ফ্রিগেট বা যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইউনিটটির কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তাব পার্লামেন্টে পাঠানো হবে কি না, তা নিয়ে সরকার পর্যালোচনা চালাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
২০০৯ সালে এডেন উপসাগরে জলদস্যু দমন এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চেওংহে ইউনিট মোতায়েন করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম ওয়াইটিএনের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটিতে রয়েছে প্রায় ৩০০ সামরিক সদস্য, একটি ডেস্ট্রয়ার, একটি সামুদ্রিক হেলিকপ্টার এবং কয়েকটি দ্রুতগামী ছোট নৌযান।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এডেন উপসাগরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং জলদস্যুদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় ইউনিটটির কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে ভাবা হচ্ছে।
এর আগে ট্রাম্প ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতাকে ‘অপর্যাপ্ত’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। অন্যদিকে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট লি জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এমন কোনো সামরিক সম্পদ পাঠানোর পরিকল্পনা তাঁর নেই, যা দক্ষিণ কোরিয়াকে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে।
তবে ওই অঞ্চলে নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিউল আরও কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, তা পর্যালোচনার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের পর দেশটির সামরিক ভূমিকা কতটা বাড়বে, তা স্পষ্ট নয়।


মন্তব্য করুন