দেশের শেয়ারবাজারে দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। শেয়ারের দাম কমার পাশাপাশি কমেছে লেনদেনের গতি। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন নেমে এসেছে ৩৬৬ কোটি টাকার ঘরে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে ডিএসইতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে প্রধান মূল্যসূচক। এর মধ্য দিয়ে চলতি সপ্তাহের দুই কার্যদিবসেই বাজারে দরপতন হলো।

দিনের শুরুতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় ঊর্ধ্বমুখী ছিল সূচক। তবে আধা ঘণ্টার বেশি সেই প্রবণতা স্থায়ী হয়নি। এরপর লেনদেনের বাকি সময়ে একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমতে থাকে।

দিন শেষে ডিএসইতে ১০২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২১৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬৭টির।

দরপতনের প্রভাবে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৮৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬৮ পয়েন্টে নেমেছে।

তবে সূচক কমলেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। রোববার ডিএসইতে মোট ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩১৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনে লেনদেন বেড়েছে ৪৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

এদিন লেনদেনের শীর্ষে ছিল সোনালী আঁশ। কোম্পানিটির ১৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আইপিডিসি ফাইন্যান্সের লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আর ১২ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। বাজারটির সার্বিক মূল্যসূচক ৩৬ পয়েন্ট কমেছে। তবে লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকায়, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে দুই শেয়ারবাজারেই দরপতনের চিত্র দেখা গেছে। ডিএসইতে লেনদেন সামান্য বাড়লেও বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।