কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ওয়েইনরাইট সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে আশপাশের হাসপাতালগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বিকেলে সামরিক ঘাঁটির একটি প্রশিক্ষণ এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রবল ঝড়ো বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গ্রামাঞ্চলেও।

কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি। তিনি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে জানিয়েছেন, আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

এডমন্টনের রয়্যাল আলেকজান্দ্রা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওয়ারেন থিরস্ক সিবিসি নিউজকে বলেন, সামরিক ঘাঁটির আশপাশের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো আহতদের চাপ সামলাতে পারছে না। এ কারণে আহতদের এডমন্টনের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

তিনি পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, গত ১৫ থেকে ২৫ বছরে একবার ঘটে এমন বিপর্যয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দিতে বিভিন্ন হাসপাতালকে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে হচ্ছে।

কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) জানায়, শনিবার বিকেল ৪টার কিছু পর সামরিক ঘাঁটির প্রশিক্ষণ এলাকায় আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ ও দেশটির সশস্ত্র বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।

এদিকে আলবার্টার বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতির ঝড়ো বাতাস বয়ে যায়। এতে গাছ উপড়ে পড়ে, সাইনবোর্ড ভেঙে যায় এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের বেগ পেতে হয়।

শনিবার রাত ১১টার দিকে ওয়েইনরাইটের পৌর প্রশাসন জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছিল। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

সামরিক ঘাঁটির কাছের ওয়েইনরাইট শহরে প্রায় সাত হাজার মানুষের বসবাস। কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য জানানো হবে।