সুদানে সংঘাত তীব্র হওয়া এবং বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। যুদ্ধরত পক্ষগুলোর প্রতি অবিলম্বে ড্রোন হামলা বন্ধ এবং অস্ত্র সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত না করে নিজেদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে যুদ্ধ বন্ধে সহায়তা করতে বাইরের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তি বিনির্মাণবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল রোজমেরি ডিকার্লো নিরাপত্তা পরিষদকে জানিয়েছেন, উত্তর করদোফান, দক্ষিণ করদোফান ও ব্লু নাইল অঙ্গরাজ্যে লড়াই তীব্র আকার ধারণ করেছে। সহিংসতা এসব অঞ্চলের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংকট সমাধানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলেও জানান তিনি।

ডিকার্লোর মতে, চলতি বছর সুদানে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের অন্যতম প্রধান কারণ ড্রোন হামলা। অব্যাহত অস্ত্র সরবরাহ ও নতুন যোদ্ধা নিয়োগ সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলছে। তিনি সতর্ক করেন, বিদেশি সহায়তা অব্যাহত থাকলে যুদ্ধরত পক্ষগুলো আলোচনার পরিবর্তে সামরিক শক্তির মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে। প্রতিবেশী দেশগুলোর অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে সুদানের সংঘাত আঞ্চলিক সংকটে রূপ নেওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

চলমান অচলাবস্থার মধ্যেও মানবিক যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে ‘কোয়াড’ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছে জাতিসংঘ। মহাসচিবের ব্যক্তিগত দূত পেক্কা হাভিস্তোর প্রচেষ্টায় বন্দিদের মুক্তি ও বিনিময় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষই বন্দিদের একতরফাভাবে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় কমিটি গঠন করেছে।

শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইউনিসেফের সঙ্গে সমন্বয় করে সুদানি শিক্ষার্থীদের জাতীয়ভাবে স্বীকৃত দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন হাভিস্তো। শরণার্থী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার বিষয়ে চাদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।

সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ‘কুইন্টেট’ ও ‘কোয়াড’-এর মধ্যে প্রথম যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগামী সপ্তাহে জেনেভায় সুদানবিষয়ক পরামর্শক গোষ্ঠীর বৈঠকে বিভিন্ন কূটনৈতিক পক্ষ ও মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। এল-ফাশের পতনের বার্ষিকী সামনে রেখে সংঘাত বন্ধে যুদ্ধরত পক্ষ ও তাদের সমর্থকদের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ডিকার্লো।

যুক্তরাষ্ট্রের উপ-প্রতিনিধি জেফ বার্টোসও মানবিক যুদ্ধবিরতি এবং সুদানে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে তিনি ‘কুইন্টেট’-এর উদ্যোগকে বেসামরিক নেতৃত্বাধীন শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক উত্তরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে উল্লেখ করেন।